
মাঠা কী? কেন এটি জনপ্রিয়?
মাঠা একটি জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী পানীয় যা সাধারণত দই থেকে তৈরি হয়। এটি হালকা টক স্বাদের একটি হজমকারী পানীয়, যা বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি দেয়। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে এই পানীয়টি বেশ প্রচলিত।
মাঠা কিভাবে বানায় ? জানুন সহজ ঘরোয়া পদ্ধতি, টিপস এবং মাঠার উপকারিতা। Must Milk এর সাথে তৈরি করুন স্বাস্থ্যকর মাঠা এবং উপভোগ করুন আপনার প্রিয়জনদের সাথে।
Table of Contents
মাঠার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা:
মাঠা শুধু স্বাদের জন্যই নয়, এটি স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও অত্যন্ত উপকারী। নিচে এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা তুলে ধরা হলো –
✅ হজমশক্তি বাড়ায়: প্রোবায়োটিক উপাদান থাকার কারণে এটি অম্লতা, গ্যাস ও বদহজম দূর করতে সাহায্য করে।
✅ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে: মাঠা শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে এবং গ্রীষ্মকালে পানির ঘাটতি পূরণ করে।
✅ ওজন কমাতে সহায়ক: এতে ক্যালোরি কম থাকে এবং এটি মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে।
✅ ইমিউন সিস্টেম উন্নত করে: মাঠায় থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়া শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

মাঠা কিভাবে বানায় ? জানুন সহজ ঘরোয়া পদ্ধতি
মাঠা তৈরি করার জন্য খুব বেশি উপকরণ লাগে না। সাধারণত দই, পানি, লবণ বা চিনি, এবং কিছু মশলা দিয়েই সুস্বাদু মাঠা বানানো যায়।
মাঠা কিভাবে বানায়? জানুন প্রয়োজনীয় উপকরণ:
উপাদান | পরিমাণ |
টক দই | ১ কাপ |
ঠান্ডা পানি | ২ কাপ |
বিট লবণ | ½ চা চামচ |
চিনি (ঐচ্ছিক) | ১ চা চামচ |
প্রস্তুত প্রণালী: মাঠা কিভাবে বানায়
- টক দই ও ঠান্ডা পানি একটি ব্লেন্ডারে নিন।
- লবণ, ও চিনি (যদি মিষ্টি মাঠা চান) যোগ করুন।
- ভালোভাবে ব্লেন্ড করুন যাতে দই পুরোপুরি মিশে যায় এবং একটি ফ্রেশ পানীয় তৈরি হয়।
- পরিবেশনের আগে ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করুন এবং ঠান্ডা গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করুন।
বিভিন্ন ধরণের মাঠার রেসিপি
মাঠা শুধুমাত্র লবণাক্ত বা সাধারণ দই-পানি মিশ্রণ নয়, বরং এর স্বাদ ও ধরণ বিভিন্নভাবে পরিবর্তন করা যায়। অঞ্চলভেদে ও ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী মাঠার বিভিন্ন ভ্যারিয়েশন পাওয়া যায়। নিচে বিভিন্ন ধরণের মাঠা কিভাবে বানায় বিস্তারিত দেওয়া হলো—
১. সাধারণ মাঠা (Traditional Mattha)
এটি সবচেয়ে সাধারণ মাঠা, যা দই, পানি, লবণ ও কিছু মশলা মিশিয়ে তৈরি করা হয়। এটি হজমের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ গ্রীষ্মকালে এটি পান করে।
উপকরণ:
- টক দই – ১ কাপ
- ঠান্ডা পানি – ২ কাপ
- বিট লবণ – ½ চা চামচ
২. মিষ্টি মাঠা (Sweet Mattha)
যারা লবণাক্ত স্বাদের পরিবর্তে একটু মিষ্টি পছন্দ করেন, তারা এই মিষ্টি মাঠা তৈরি করতে পারেন। এটি মূলত লস্যির মতো তবে হালকা ও বেশি পানযোগ্য।
উপকরণ:
- মিষ্টি বা সামান্য টক দই – ১ কাপ
- ঠান্ডা পানি – ২ কাপ
- চিনি বা মধু – ১ চা চামচ
- এলাচ গুঁড়া – ১ চিমটি
প্রস্তুত প্রণালী:
- দই, পানি ও চিনি একসাথে ব্লেন্ড করুন।
- এলাচ গুঁড়া যোগ করে মিশিয়ে নিন।
- পরিবেশনের আগে ঠান্ডা করুন এবং বাদাম কুচি ছিটিয়ে পরিবেশন করুন।
৩. মশলাদার মাঠা (Masala Mattha)
এই মাঠা সাধারণ মাঠার তুলনায় আরও সুগন্ধযুক্ত । এটি বিশেষ করে হজম ও গ্যাসের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
৪. আমের মাঠা (Mango Mattha)
গ্রীষ্মকালীন বিশেষ পানীয় আমের মাঠা দই ও পাকা আমের রসের সাথে তৈরি করা হয়। এটি টক-মিষ্টি স্বাদের হয় এবং প্রচণ্ড গরমে একদম পারফেক্ট একটি পানীয়।
উপকরণ:
- পাকা আম – ১টি (ছোট আকারের)
- টক দই – ১ কাপ
- ঠান্ডা পানি – ২ কাপ
- চিনি – ১ চা চামচ (ঐচ্ছিক)
- বিট লবণ – ১ চিমটি
প্রস্তুত প্রণালী:
- আমের খোসা ছাড়িয়ে কেটে নিন।
- আমের টুকরো, দই ও পানি একসঙ্গে ব্লেন্ড করুন।
- বিট লবণ ও এলাচ গুঁড়া মিশিয়ে নিন।
- ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করুন এবং পরিবেশন করুন।
৫. ভেল্লা মাঠা (Buttermilk Mattha)
ভেল্লা মাঠা সাধারণত আরো পাতলা ও বেশি পরিমাণে তৈরি করা হয়, যা অনেক সময় খাবারের পর পাচন শক্তি বাড়াতে ব্যবহার করা হয়।
উপকরণ:
- টক দই – ১ কাপ
- ঠান্ডা পানি – ৩ কাপ
- বিট লবণ – ½ চা চামচ
- জিরা গুঁড়া – ১ চা চামচ
- লেবুর রস – ১ চা চামচ
প্রস্তুত প্রণালী:
- দই ও পানি ব্লেন্ড করে পাতলা মিশ্রণ তৈরি করুন।
- লবণ, জিরা গুঁড়া ও লেবুর রস যোগ করুন।
- পরিবেশনের আগে কিছুক্ষণ ফ্রিজে রাখুন।
৬. কাঁচা হলুদ মাঠা (Turmeric Mattha)
কাঁচা হলুদ মাঠা বিশেষত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য দারুণ উপকারী। এটি ঠান্ডা-কাশি ও হজমের সমস্যার জন্য বেশ কার্যকর।
উপকরণ:
- টক দই – ১ কাপ
- ঠান্ডা পানি – ২ কাপ
- বিট লবণ – ½ চা চামচ
- ভাজা জিরা গুঁড়া – ½ চা চামচ
- কাঁচা হলুদ বাটা – ১ চিমটি
- মধু – ১ চা চামচ
প্রস্তুত প্রণালী:
- দই ও পানি একসঙ্গে ব্লেন্ড করুন।
- হলুদ বাটা, লবণ ও জিরা গুঁড়া মিশিয়ে নিন।
- মধু দিয়ে মিষ্টতা বাড়িয়ে ঠান্ডা পরিবেশন করুন।
মাঠা সংরক্ষণের টিপস
✔ ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন: মাঠা ৭ দিন পর্যন্ত ফ্রিজে রেখে খাওয়া যায়।
✔ টক হয়ে গেলে খাবেন না: বেশি দিন রেখে দিলে মাঠা অতিরিক্ত টক হয়ে যেতে পারে এবং স্বাদ নষ্ট হতে পারে।
✔ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন: মাঠা পরিবেশনের আগে আবার হালকা ঝাঁকিয়ে নিন যেন সব উপকরণ ভালোভাবে মিশে যায়।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. মাঠা কি প্রতিদিন খাওয়া যায়?
✔ হ্যাঁ, এটি প্রতিদিন খাওয়া যায় কারণ এটি হজমে সহায়ক এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখে।
২. মাঠা কি রাতে খাওয়া উচিত?
✔ না, সাধারণত দুপুর বা বিকেলে খাওয়া উত্তম। রাতে খেলে কিছু ক্ষেত্রে পেটে সমস্যা হতে পারে।
৩. মাঠা কি ওজন কমাতে সাহায্য করে?
✔ হ্যাঁ, কারণ এতে ক্যালোরি কম এবং এটি মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে।
৪. বাজারের মাঠা ও ঘরের মাঠার মধ্যে পার্থক্য কী?
✔ বাজারের মাঠায় সংরক্ষণক ব্যবহার করা হয়, যা ঘরের তাজা মাঠার তুলনায় কম স্বাস্থ্যকর হতে পারে।
From Wikipedia, the free encyclopedia about “mattha”

মাঠা কিভাবে বানায় এর কিছু বিশেষ টিপস
⭐ টক দই ব্যবহার করুন, এটি মাঠাকে আরও স্বাদযুক্ত করে তুলবে।
⭐ ভাজা জিরা গুঁড়া মাঠার স্বাদ বাড়ায়, এটি অবশ্যই যোগ করুন।
⭐ গরমের দিনে বরফ যোগ করুন, এটি মাঠাকে আরও রিফ্রেশিং করে তুলবে।
শেষ কথা
মাঠা শুধু সাধারণ পানীয় নয়, এটি এক ধরণের প্রাকৃতিক হজমকারী ও শরীর ঠান্ডা রাখার উপাদান। ঘরোয়া উপায়ে এটি খুব সহজেই তৈরি করা যায় এবং গরমের দিনে এটি এক অনন্য স্বাদ ও স্বস্তি দেয়।
আপনি কি মাঠা বানিয়ে খেয়েছেন? আপনার অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে কমেন্টে শেয়ার করুন!
আরও জানুনঃ
#best mattha #Mattha #mattha recipe